২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের নীতিমালা প্রকাশ

চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উন্নয়নে ৭% সুদে মিলবে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ

চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্পে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হবে। স্কিমটির মেয়াদ তিন বছর এবং এ সময়ের মধ্যে তহবিলটি আবর্তনযোগ্য বা রিভলভিং ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত এ তহবিলের নীতিমালা গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কোনো গ্রাহক বিশেষ এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। আর এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৭ শতাংশ।

নীতিমালায় বলা হয়, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশগত মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশের চাহিদা পূরণ, রফতানি আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

স্কিমের আওতায় নতুন ট্যানারি স্থাপন, অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা, কাঁচা চামড়া-চামড়াজাত পণ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে অর্থায়ন করা যাবে। কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, ইটিপি, এসটিপি, ডাম্পিং ইয়ার্ড, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি স্থাপনও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন, চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের সহায়ক উপকরণ উৎপাদনেও ঋণ দেয়া হবে।

ঋণ পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় প্রশাসন, কলকারখানা ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং ছাড়পত্র নিতে হবে। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার পাবে। তবে একই খাতে রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড বা অন্য কোনো সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে চলমান ঋণ থাকলে এ স্কিমের আওতায় নতুন ঋণ পাওয়া যাবে না। খেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও এ সুবিধার অযোগ্য হবেন।

স্কিমের আওতায় ঋণ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ট্যানারি, বর্জ্য শোধনাগার, কোল্ড স্টোরেজ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ পাবে। বিদ্যমান ট্যানারির সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং নতুন চামড়াজাত পণ্য কারখানা স্থাপনে সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হবে। বিদ্যমান চামড়াজাত পণ্য কারখানার সংস্কার ও আধুনিকায়নে ঋণসীমা হবে ১০ কোটি টাকা। কার্যকরী মূলধন হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি এবং সহায়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণের সুযোগ থাকবে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সাত বছর পর্যন্ত সময় দেয়া যাবে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন খাতে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ চার বছর মেয়াদে ঋণ দেয়া হবে। মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। কার্যকরী মূলধন ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর; ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে তা নবায়ন করা যাবে। তবে নবায়নসহ সর্বোচ্চ তিন বছর এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

স্কিমের আওতায় অর্থায়ন পেতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। গ্রাহকের ঋণ অনুমোদনের পর ব্যাংককে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে হবে। ঋণের ঝুঁকি, গ্রাহক নির্বাচন, জামানত গ্রহণ ও ঋণ আদায়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপরই থাকবে। ঋণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে এবং গ্রাহকের বিক্রয় ও রাজস্ব প্রতিবেদন সংগ্রহের পাশাপাশি প্রতি তিন মাসে কারখানা পরিদর্শন করতে হবে।

বিশেষ শর্ত হিসেবে ঋণ পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানকে এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের প্রমাণ জমা দিতে হবে। একই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এ স্কিম বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।

আরও